হলুদ

  হলুদ প্রাচীনকাল থেকেই আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে রয়েছে। খাবার সুস্বাদু ও রঙিন করতে এর জুড়ি নেই। গাছের শিকড় থেকে পাওয়া হলুদ এক ধরণের মশলা। কাঁচা হলুদের চেয়ে গুঁড়ো হলুদের ব্যবহার বেশি দেখা যায়। তবে কাঁচা হলুদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুণ লুকিয়ে রয়েছে।হলুদের বৈজ্ঞানিক নাম হলো (Curcuma Longa)। 

    প্রাচীন কাল থেকেই ভারতীয় উপ মহাদেশে  আয়ুর্বেদিক  চিকিৎসা পদ্ধতিতে হলুদের ব্যবহার সংশয়াতীত। হলুদের থেকে প্রচুর পরিমানে ক্যালোরি পাওয়া যায়।  এছাড়া ফ্যাট, সোডিয়াম, পটাসিয়াম, প্রোটিন, ফাইবার, ভিটামিন সি, ভিটামিন ডি, আইরন, ম্যাগনেসিয়াম প্রভৃতি পাওয়া যায়। শুধুমাত্র হলুদ দিয়েই বহুপ্রকার রোগ সরানো সম্ভব।

হলুদের উপকারিতা – ১)হলুদের অ্যান্টি অক্সিডেন্ট রক্তকণিকা কে নিরাপদ রাখে। তাই নিয়মিত পরিমাণ মতো হলুদ খেলে ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকটা কমে। বিজ্ঞানীদের মতে কাঁচা হলুদের মধ্যে থাকা কারকামিন নামক উপাদানের ক্যান্সার বিরোধী ক্ষমতা আছে। কারকামিন টিউমারের কোষকে বড়ো হতে বাধা দেয়।  

২)ব্রণ দূর করতে সকালে খালি পেটে ১/২ টুকরো কাঁচা হলুদ, ২/১ টা নিমপাতা আখের গুড়ের সঙ্গে মিশিয়ে খেলে ব্রণ সেরে যায়। 

৩) কাঁচা হলুদের রসের সাথে অল্প নুন মিশিয়ে সকালে খালিপেটে খেলে পেটের ক্রিমি দূর হয়।  ছোটোদের ক্ষেত্রে ৫ থেকে ১০ ফোঁটা এবং বড়োদের ক্ষেত্রে ১৫ থেকে ২০ ফোঁটা  ব্যবহার করা যেতে পারে।
৪) হলুদের মধ্যে রয়েছে রক্ত জমাটবিরোধী উপাদান।  সেজন্য হলুদ ব্যবহারে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।

৫) রক্তের কোলস্টেরল কমাতে  প্রতিদিন সকালে দুই টুকরো কাঁচা হলুদ খেলে উপকার পাওয়া যায়।

৬) অনেক খাবার আছে যেগুলি খেলে ব্যক্তি বিশেষেঅ্যালার্জি বা আমবাত দেখা দেয়।  আক্রান্ত জায়গা  ফুলে ওঠে, চুলকায় বা লাল হয়ে যায়, একে বলা হয় অ্যালার্জি বা আমবাত। এ ক্ষেত্রে ১-২-৩ অনুপাতে শুকনো করা নিমপাতা, কাঁচা হলুদ এবং আমলকী একসঙ্গে মিশিয়ে ১ গ্রাম মাত্রায় সকালে খালি পেটে ২ সপ্তাহ খেলে শিগগিরই অসুবিধাগুলো নিরাময় হবে।এই মিশ্রণটি শুকনো করে গুঁড়ো করে ব্যবহার করলেও ভালো ফল পাওয়া যায়। 

৭) হলুদ পিত্তরস নিঃসরণে সহায়তা করার মধ্যে দিয়ে  খাদ্য হজমে  গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৮) শরীরের কোনো অংশ হটাৎ করে মচকে গেলে বা ভেঙে গেলে চুন, হলুদ ও নুন ২-৪-১ অনুপাতে ভালো করে মিশিয়ে নিয়ে গরম করে আক্রান্ত স্থানে ২/৩ দিন লাগালে উপকার পাওয়া যায়।  
৯) মুখের ঔজ্জ্বল্য ও মসৃণতা বজায় রাখতে মসুর ডাল ও  দুধের সরের সাথে কাঁচা হলুদ বেটে লাগালে উপকার পাওয়া যায়। 

১০) গায়ের রঙ উজ্জ্বল এবং বিভিন্ন ধরনের চর্ম রোগ প্রতিরোধ করতে নিমপাতা, কমলালেবুর খোসা ও কাঁচা হলুদ বেটে লাগালে উপকার পাওয়া যায়। 

১১) সমুদ্রের মাছকে শুকিয়ে শুঁটকি করার আগে নুন ও হলুদ মিশিয়ে নিলে মাছ বিশুদ্ধ ও টাটকা রাখা যায়।  রোদে শুকোনোর সময় মাছের গায়ে মাছি ডিম পাড়তে  পারে না।  

১২) বর্ষাকালে গ্রামে গঞ্জে অথবা জঙ্গলে জোঁকের উপদ্রব বাড়ে। এসময় শরীরের খোলা জায়গায় বিশেষতঃ  হাতে ও পায়ে হলুদ গুঁড়োর প্রলেপ লাগিয়ে রাখলে জোঁক সহজে বসতে পারে না।  এছাড়া কোনোভাবে মানুষ অথবা প্রাণীদেহে জোঁক বসলে হলুদ গুঁড়োর প্রলেপ লাগালে জোঁক পড়ে যাবে ও রক্ত পড়া বন্ধ হবে।  
কাদের জন্য হলুদ ঝুঁকিপূর্ণ ?  যাদের লিভারের রোগ হওয়ার ঝুঁকি আছে একমাত্র তারা ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে হলুদ ব্যবহার করতে পারেন। 
সুতরাং হলুদ বিভিন্ন পদ্ধতিতে ব্যবহার করলে ও খেলে অনেক উপকার পাওয়া যাবে। তবে তা নির্দিষ্ট পরিমাণে খাওয়া উচিত। 

হলুদ

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published.